আমাদের সম্পর্কে :
বোর্ডের নাম : নূরানী তা’লীমুল কুরআন বোর্ড।
প্রতিষ্ঠাকাল : ০৬ ই ফেব্রুয়ারী ২০২২ ইংরেজী
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান : দীর্ঘ দিনের সিনিয়র সফল প্রশিক্ষক :- হাফিজ মাওলানা শায়েখ হুসাইন আহমাদ সাহেব
বোর্ডের ধরণ : ইসলামী ও জাতীয় শিক্ষার অপূর্ব সমন্বয়ে প্রণীত সিলেবাসে ব্যতিক্রমধর্মী একটি শিক্ষা বোর্ড।
ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা করুণাময় আল্লাহ তায়ালার জন্য যিনি শিক্ষা দিয়েছেন আল- কুরআান এবং সৃষ্টি করেছেন মানুষ। অফুরন্ত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হউক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) ও তার পরিবারবর্গ, সাহাবায়ে কেরাম এবং সমস্ত আম্বিয়ায়ে এযাম, সিদ্দিকীন,শুহাদা ও সালিহীনগণের উপর।
মহামান্য উলামা মাশায়িখ শিক্ষক-শিক্ষিকা, কবি সাহিত্যিক ও কলামিস্টবৃন্দ: আমাদের কর্মের কারণে আজ আমরা দিশেহারা,যার ফলশ্রুতিতে মুসলমানরা নিজ অঙ্গনে পরাধীন, কুরআন হাদিসের সকল কথা স্বাধীনভাবে বলতে ও লিখতে পারে না। যেখানে আলেম সম্প্রদায় রাষ্ট্র ও সমাজের প্রথম শ্রেণীর নাগরিক হওয়ার কথা ছিল, সেখানে আজ আলেমদেরকে সমাজের বোঝা ও নিম্ন শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। যেখানে মুসলমানদের আদরের শিশু বাচ্চাদেরকে ইসলাম, কুরআন ও নৈতিক শিক্ষাদানের কথা ছিল, সেখানে দেয়া হচ্ছে তথাকথিত প্রগতিশীলতার নামে ধর্মহীন,নীতি বিবর্জিত শিরক ও নাস্তিকতাবাদের অপরিণামদর্শী শিক্ষা ব্যবস্থা। আজ পৃথিবীর সকল পরাশক্তি একতাবদ্ধভাবে মুসলমানদেরকে ও তাদের আক্বিদা-বিশ্বাসকে এবং সর্বোপরি তাদের শিশু বাচ্চাদেরকে অংকুরেই ধ্বংস করতে সংকল্পবদ্ধ। আর এই নীল নকশা বাস্তবায়নকল্পে আমাদেরকে ঘুমের ঘরেই রেখে আমাদের শিশু বাচ্চাদেরকে মায়ের কোল থেকে শিক্ষার নামে তারা টেনে নিয়ে যাচ্ছে পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে গড়ে ওঠা সংস্থাগুলোর অর্থায়নে গঠিত শিক্ষাঙ্গনে। এজন্য ধীরে ধীরে আমাদের সমাজটাকে ইসলামিক সংস্কৃতির পরিবর্তে পশ্চিমা সংস্কৃতি গ্রাস করে নিচ্ছে। আজ আমাদের ঘরে বাইরে সবখানেই ইসলামী সভ্যতার পরিবর্তে পাশ্চাত্য সভ্যতার জয়-জয়কার। অত্যন্ত আক্ষেপের বিষয় হচ্ছে,যারা এই আগ্রাসনের মোকাবিলা করার ছিল,তারা নিজের সন্তান দিয়ে, হাতে হাত মিলিয়ে,জ্ঞান বুদ্ধি দিয়ে প্রতিনিয়ত তাদের লালন করে যাচ্ছে, অথচ সে জানেনা কি করে যাচ্ছে!শতকরা ৯০ জনেরও বেশি মুসলিম শিশু-কিশোর কোরআন ও ইলমে দ্বীনের পরিবর্তে এমন শিক্ষা অর্জন করছে, যা তাকে প্রতিমুহূর্তে জান্নাতের রাস্তা হতে বিচ্ছিন্ন করে জাহান্নামের দিকে ধাবিত করছে। বন্ধুগণ! এই করুন অবস্থা থেকে মুসলিম উম্মাহ ও তাদের শিশু বাচ্চাদেরকে রক্ষা করার একটি যুগপথ প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়াস হচ্ছে নুরানী তা’লীমুল কুরআন বোর্ড । এদিকে গবেষণা ও দৃশ্যমান বাস্তবতায় অসংখ্য জায়গায় প্রমাণিত হয়েছে যে নূরানী শিক্ষা ব্যবস্থা গোমরাহীর অন্ধকার দূর করে হেদায়াতের আলো জ্বালাতে সক্ষম ,এজন্য দল-মত নির্বিশেষে সকলে মিলে গ্রামে-গঞ্জে শহরে-বন্দরে গড়ে তোলা প্রয়োজন নূরানী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । সম্মানিত দ্বীনের অতন্দ্র প্রহরীরা! আপনাদের এখলাস তাকওয়া ও অক্লান্ত পরিশ্রমই পারে বাংলার আনাচে-কানাচে হেদায়েতের আলো জ্বালাতে, মুসলমানদের কোমলমতি শিশু বাচ্চাদেরকে কোরআন ও ইলমে দ্বীন শিক্ষা দিতে । তাই আসুন নূরানী শিক্ষা কে আরো কার্যকর ও বেগবান করতে নূরানী তা’লীমুল কুরআন বোর্ড এর সকল কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাই । রাব্বি কারীম আমাদের এই মেহনতটুকু যেন কবুল করেন । আমিন ।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
(ক) সর্বস্তরে ইসলামী আদর্শ ও শিক্ষা প্রতিষ্টিত করা।
(খ) রাসূল (সা:)এর আদর্শে আদর্শবান শিক্ষক-শিক্ষিকা তৈরি করা।
(গ) নূরানী মুয়াল্লিম-মুয়াল্লিমা প্রশিক্ষণ বৎসরব্যাপী চালু রাখা।
(ঘ) মুসলমানদের শতভাগ ছেলে-মেয়েদেরকে কুরআন ও দ্বীনের মৌলিক বিষয়াদী শিক্ষা দেয়া।
(ঙ) ইসলামী শিক্ষার সাথে জাতীয় শিক্ষার সমন্বয় করা।
(চ) বয়স্কদের জন্য কুরআন ও দ্বীনি শিক্ষা কোর্স চালু করা।
(ছ) উপরোক্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করতঃ দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করা।
